গল্প- তুমি আর আমি
লেখক : নাঈম আহমেদ
২য় অংশ
ফ্রেশ হয়ে নিজের রুমে ঢুকলো আবির। শুধু রিমার কথাই মনে পড়ছে। এখনো একটা ঘোরের মধ্যে আছে সে। রিমার দেওয়া প্যাকটা বের করে দেখলো, হালকা বাদামী রঙয়ের একটা পাঞ্জাবী আর পাইলট ব্রান্ডের একটি হাত ঘড়ি। চিঠিটা ভাজ খুলে পড়তে লাগলো....
আসসালামুআলাইকুম ডিয়ার বাবু, আশা করি অনেক টেনশনে আছো। প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। প্লিজ আমাকে মাফ করে দিও। জানো আমি জীবনে কখনো প্রেম করিনি। কাউকে ভালোও বাসিনি। প্রেম ভালোবাসা কেমন, শুধু তা জানার জন্য আমি একটা দিন প্রেম করতে চেয়েছিলাম। আসলে আর কয়েকদিন পর আমার বিয়ে তো তাই আজকে সারাদিন তোমার সাথে কাটালাম। আমি জানি এটা আমার অপরাধ যে তোমাকে একটা দিনের জন্য ধোকা দিয়েছি হয়ত। আসলে তুমি অনেক ভালো, দুজনেই অপরিচিত কিন্তু আমি এক মুহুর্তের জন্যও নিজেকে আনসেইফ ভাবিনি। ইশশ আমি যদি আরো আগে তোমার দেখা পেতাম সত্যিই প্রেম করতাম। আর তুমি যে একটু বোকা টাইপ তা পুরোপুরি বুঝতে পারলাম। আর জানো তোমার চোখগুলো ছোট ছোট যে অনেক সুন্দর। যে কেউ ওগুলোর উপর ক্রাশ খাবে। তুমি আমার দেওয়া পান্জাবীটার সাথে সাদা পায়জামা আর স্যান্ডেল পড়লে তোমায় অনেক সুন্দর লাগবে। আচ্ছা ভালো থেকো কেমন, নিজের খেয়াল রেখো। আর পারলে আমাকে ক্ষমা করো। আল্লাহ হাফিজ।
.
চিঠি পড়ে মনে কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে, বাট বুঝতে পারছেনা, চিঠিটা আবার পড়লো সে। হঠাৎ খেয়াল করলো ডিয়ার বাবু, আরেহ আমিতো এটা খেয়ালই করিনি, আমার বাবু নামতো সবাই জানেনা, জাস্ট স্কুল, কলেজের ৩/৪জন টিচার আর ওর ২ বন্ধু (হৃদয় ও সম্রাট) ছাড়া, এবার বিছানায় রাখা পাঞ্জাবীটার দিকে আবার চোখ পড়তেই, হুম এটাও তো আমার সেকেন্ড পছন্দের কালার! ডাল মে কুছ কালা হ্যায়, আর এই চিঠি আগে থেকেই লিখা ছিলো, কারণ রিমা ওর সাথে যখন ছিলো তখন এই চিঠি লিখার সময় পায়নি, কিন্তু কে হতে পারে সেটা! টিচারদের সাথে তো ঐ মেয়ের দেখা হওয়ার পসিবিলিটি নেই, তাহলে কি হৃদয় আর সম্রাট এর কেউ না তো! উহু ওরা তো এমন ফান করবে না! তাহলে কে হতে পারে!!
রাতের খাবার খেতে বসে টেনশনে খেতে পারছেনা, তখন ওর মা বললো
মা- কিরে খাচ্ছিস না কেন? আর আজকে তোকে এত টায়ার্ড আর মনমরা মনে হচ্ছে কেন?
আবির- কই নাতো, আমি ঠিক আছি, একচুয়ালি খেতে ইচ্ছে করছেনা।
মা- আব্বু তুই সত্যি করে বলতো এই বিয়েতে তুই রাজি তো!
আবির- আরে আম্মু তুমি এগুলো কি শুরু করলে, আর কয়দিন পর বিয়ে আর তুমি এখন বলছো আমি রাজি কিনা! রাজি না হলে কি আমি বলতাম না?
মা- তুই কিন্তু মনের মধ্যে কোন কষ্ট চেপে রাখিস নি তো! মেয়েটাকে এতবার দেখতে যেতে বললাম তাও দেখিস নি!
আবির- আম্মু তুমি ফালতু কথা বলতেছো, তুমি যেমনটা ভাবছো ওরকম কিছুই কিন্তু নেই। আর তোমাদের সবার পছন্দ তাই আমার দেখার প্রয়োজন কি! আর ছবিতো দেখেছিই।
মা- তারপরেও, আচ্ছা ঠিক আছে। খেয়ে ঘুমাতে যা। কাল অফিস থেকে সোজা টেরি বাজার চলে আসিস, বিয়ের জন্য সব কালকেই কিনে ফেলবো, ওদের ওখান থেকেও মানুষ আসবে, সব পাঠিয়ে দিবো।
আবির- আচ্ছা ঠিকাছে।
আবির খেয়ে উঠে নিজের রুমে চলে গেলো,
রাত ১টা, বিছানার এপাশ ওপাশ করতে লাগলো বাট ঘুম আসছেনা, শুধু রিমার কথাই মনে পড়ছে, মাথার ফিউজটাই নষ্ট করে দিলো, ঘুম না আসায় মোবাইল টিপছিলো আবির, হঠাৎ করে তার মনে পড়ে রিমার চোখগুলো সে আগে কোথায় দেখেছে, কিন্তু মনে করতে পারছেনা। কিন্তু এখন এসব ভেবেই বা লাভ কি আর ৯দিন পর তো শারমিনকে বিয়ে করবে। গত ২ মাস আগে আবিরের সাথে শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়, শারমিনদের নিজ বাড়ি কুমিল্লা, কিন্তু এখানে হালিশহর এ ব্লকে ওরা নিজস্ব ফ্লাটে থাকে। শারমিনকে আবিরের বাবা-মা, বোন আর ভগ্নিপতি দেখেছে, তাদের পছন্দ হওয়ার পরই আবিরকে যেতে বলে কিন্তু আবির নতুন জব নিয়ে ব্যস্ত তাই সময় বের করতে পারেনা, শারমিনের কয়েকটি পিক আবিরকে দেওয়া হলেও আবির ওগুলো ভালোভাবে দেখেনি, শুধু উপরের নেকাব পড়া একটা পিক দেখেই হ্যা সম্মতি দেয়। আবির ভার্সিটি লাইফে একটা মেয়েকে পছন্দ করে প্রপোজ করেছিলো, কিন্তু মেয়েটি আবিরকে কিছুদিন ঘুরিয়ে প্রপোজ প্রত্যাখ্যান করে, তারপর আবির কারো প্রতি এতটা ইন্টারেস্ট দেখায় না, ওর বাবা মায়ের পছন্দ মত বিয়ে করবে বলেই শারমিনের সাথে বিয়েতে রাজি হয়ে যায়।
.
.
পরদিন অফিস শেষ করে সোজা টেরিবাজার যায় আবির। এমনিতে গিয়েছিলো সে, কেনাকাটায় তার মন নেই, এমনিতে শুধু ওদের সাথে সায় দিচ্ছে। নিজের জন্য পাঞ্জাবী চুজ করার সময় হঠাৎ ব্রান্ড দেখার সময় আবিরের মনে পড়লো আরে রিমা যে পাঞ্জাবীটা দিয়েছিলো ওটার ব্রান্ড দেখে কিছু খোঁজ পাওয়া যাবে। বাসায় যাওয়ার পর আগে নিজের রুমে গিয়ে পাঞ্জাবীটা বের করে কলারের পাশে দেখলো আড়ংএর ট্যাগ, মনে মনে বললো হুমম এটা থেকে কিছু করা যেতে পারে, বাট আড়ং থেকে কিভাবে ইনফরমেশন নিবে! হঠাৎ আশরাফের কথা মনে পড়লো, আশরাফ ওর স্কুলের ক্লাসমেট ছিলো, এখন সানমারে একটি কাপড়ের দোকান আছে, ও কিছু একটা করতে পারবে। যেই ভাবা সেই কাজ, কাপড় চেঞ্জ করে পাঞ্জাবীটা সাথে নিয়ে বাইক নিয়ে বের হয়ে সোজা জিইসি, সানমার।
.
আশরাফ- কিরে আবির, তুই কখন এসেছিস?
আবির- এইতো এখন, তুই কিন্তু আমাকে একটা হেল্প করবি।
আশরাফ- বল না কি হেল্প!
আবির পুরা বিস্তারিত সব বললো,
আবির- আড়ং এ কেউ পরিচিত আছে?? একটা ইনফরমেশন নিয়ে দিবি?
আশরাফ- উম, আছে, জেরিন। আমার পরিচিত
আবির- ধর এই পাঞ্জাবীটা নিয়ে যা, বিল কার নামে হয়েছে একটু বের করে নিয়ে আয় প্লিজ
আশরাফ- আচ্ছা, তুই শান্ত হয়ে বস, সেল কর, আমি চেষ্টা করছি
.
আশরাফ পাঞ্জাবীটা নিয়ে আড়ংয়ে গেলো, জেরিনকে বলার পর জেরিন বললো এটা সম্ভব না, কারণ কাস্টমারের ডিটেইলস অন্যকে দেওয়া সিস্টেমে নাই। কিন্তু আশরাফ অনেক রিকুয়েষ্ট করার পর জেরিন নাম ঠিকানা নাম্বার লিখে একটা কাগজ দিলো। আশরাফ দোকানে ফিরে এলো, আবিরকে কাগজটা দিলো,
আবির পড়ে দেখলো এম. এ. সিদ্দিকী আবির, আগ্রাবাদ, মোবাইলঃ ০১..........
আশরাফ- কিরে এখানে তো তোর ডিটেইলস, পাগল হয়ে গেছিস নাকি, নিজে কিনে নিজেই কাহিনী করছিস?
আবির- ধুর বেডা, নিচের নাম্বার এটা কার দেখেছিস! এটাতে কল দে
আশরাফ- আমাকে ঝামেলায় ফেলছিস কেন!!
আবির- দোস্ত প্লিজ দেনা।
আশরাফ- আচ্ছা, দিচ্ছি
.
আশরাফ ঐ নাম্বারটাতে কল দিলো, কলটা একটা মেয়ে ধরেছে,
আশরাফ- হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম, আড়ং থেকে বলছি, এম এ সিদ্দিকী আছেন?
মেয়েটি- ওয়ালাইকুমুস সালাম, জ্বি, কেন?
আশরাফ- গতকাল আমাদের এখান থেকে একটি প্রোডাক্ট নিয়েছিলেন, যে টাকা পেমেন্ট করেছেন সেখানে একটি টাকা জাল
মেয়েটি- ঐ মিয়া ফালতু কথা বলেন কেন? কিসের জাল? আমি নিজের জমানো টাকা দিয়ে শপিং করেছি আর আপনি বলেন জাল, আপনি নিশ্চয়ই শপিং করার সময় ফলো করে নাম্বার নিছেন, এখন আজাইরা কথা বলে লাইন মারার ট্রাই করছেন? থানায় জিডি করে দিবো,
আশরাফ সাথে সাথে কল কেটে দিয়ে বললো ওরে বাপরে কি মাইয়ারে,
আবির- কিরে কি বললো?
আশরাফ- এটা ওরই নাম্বার, ফোনে যে বাংলা *** দিছে বেটা, আমি তোর এই ঝামেলায় নেই, তুই নিজে সমাধান কর
আবির- আচ্ছা ঠিক আছে, নাম্বার পেয়েছি, এখন দেখি কি করা যায়
.
আবির ওখান থেকে বেরিয়ে এলাকায় চলে এলো, সম্রাট আর হৃদয়কে সাথে নিয়ে চা খেতে দোকানে বসলো,
.
হৃদয়- কিরে দোস্তঅক্কল কেনে চলর?
সম্রাট- এইতো ঢুলাই ঢুলাই চলির, আবিরজা তো ওউডো প্রেম গরের
হৃদয়- অয়অ বেডা, কিরে আবির ন কা মাতর?
আবির- এ্য কি হইয়্যুছ দে?
সম্রাট- দেখছছ, ওর মন এখানে নাই।
আবির- দুরো হালার পোয়া হালাআইন, কিয়ুর প্রেম গরিদ্দে? আর ৮দিন পর বিয়া গইজ্যুম এহন আর কিয়ুর প্রেম?
হৃদয়- হুমম। তোহ ঐ মেয়েটার কোন নিউজ পাইছছ?
আবির- হ্যা, নাম্বার পাইছি। বাট পরিচয় দিলে তো কথা বলার চান্স নাও হতে পারে, নাম্বার অফ করে দিলে আম ছালা ২টাই যাবে। বলতো এখন ওর ঠিকানা বের করি কিভাবে?
হৃদয়- নাম্বারটা দেখি? (হৃদয় নাম্বার দেখলো) আরে ইজিলি বের করা যাবে, হাসান রবি কেয়ারে জব করে, ও বের করে দিবে। বাট কয়েকদিন সময় লাগবে।
আবির- রিয়েলি? যদি পারছ তাইলে কিন্তু মামু গ্রিল হাবাইয়্যুম তোরারে।
সম্রাট- তাহলে তো আরও সহজে হবে, আমরা গ্রিল মিস করতে চাইনা।
.
ওরা ৩ জন আরও প্রায় ঘন্টা খানেক আড্ডা দিয়ে সবাই চলে গেলো।
.
কয়েকদিন পর,
বিয়ের মোটামুটি প্রস্তুতি শেষ। বিয়েটা মুলত ২ পর্বে হবে। প্রথমে আকদ(,এঙ্গেজমেন্ট) তার ৩ দিনের মাথায় বিয়ের অনুষ্ঠান, আবির অফিস থেকে ৬ দিনের ছুটি নিয়েছে, আবিরের ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাইও প্রায় ৪/৫ দিনের করে ছুটি নিয়েছে। আজ বৃহঃবার, বিকেলে মসজিদে আকদ হবে। ঘরে মোটামুটি মেহমান আসা শুরু হয়ে গেছে, সকাল ১০টায় হৃদয় কল দিয়ে বললো ঐ মেয়েটার নাম্বারের লোকেশন ট্রেস করা গেছে, মেসেজ করে পাঠিয়ে দিয়েছি। আবির লোকেশন দেখে এক্সাইটেড হলো, বিজিবি কোয়ার্টার, হালিশহর!! আকদের এখনো সময় আছে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা। বাইক নিয়ে সোজা রওনা হলো, পথে হৃদয়কে সাথে নিলো। নয়াবাজার গিয়ে খোঁজ নিয়ে নিয়ে বিজিবি কোয়ার্টার এলাকায় গেলো।
আবির- কিরে ঠিকানা তো এইটা, এবার বাসা কেমনে খুঁজবো?
হৃদয়- তুই কি বাসায় যাবি নাকি? পিটাধুনা খাওয়ার ইচ্ছে হইছে?
আবির- উহু, বাসার এড্রেস পাইলে ওকে কল দিয়ে সারপ্রাইজ করে দিবো, তখন আন্টি ফান্দে পড়িয়া ঠিকই আসবে।
হৃদয়- আন্টি??
আবির- আরে বেটা রিমার কথা বলছি।
.
হঠাৎ পাশের বিল্ডিং থেকে বারান্দা দিয়ে পিচ্চি একটা বলে উঠলো আবির ভাইয়া আপনি? আমাদের বাসা চিনেন না?
আবির- এ্য, তুমি কে? আর আমাকে কিভাবে চিনো?
পিচ্চি- আপনার সাথে আপুর বিয়ে হবে, আমি চিনবোনা? দাড়ান আম্মুকে ডাকছি।
আবির- হৃদয় এগুলা কিরে! তার মারে বাপ, এ কয়দিন কি ঘটছে আমি কিছুই তো বুঝতে পারছিনা, একটার পর আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটছে। পিচ্চি এটা কে? আর ওর আপুর সাথে আমার বিয়ে!! কিছুই তো বুঝতে পারছিনা।
হৃদয়- আমি কি জানি! আমিও তো কনফিউজড। কে আসতেছে দেখ, তোর শশুর।
আবির আরও অবাক হয়ে গেলো, শারমিনের বাবা এখানে!
আবির- আসসালামু আলাইকুম
শশুর- ওয়ালাইকুমুসসালাম, বাবা হঠাৎ করে কিছু না বলে এলে, আর বাসায় না এসে এখানে দাড়িয়ে আছো কেন? বাসায় এসো
আবির- জ্বি মানে অফিসের একটা জরুরী দরকারে এসেছিলাম। পরে আসবো।
শশুর- আরে দরজা থেকে ঘুরে যাবে তাতো হবেনা। এসো।
না পেরে শেষমেশ বাসায় গেলো। বাসায় যাওয়ার পর তো একটা কারবার। হরেকরকম পিঠা, ফ্রুটস, দধি, শরবতে টেবিল ভরপুর। ডাইনিং এ বসে অল্প কিছু খেয়ে উঠে যাবে এমন সময় দেখলো টিভির পাশে বিয়ের কার্ড, ডিজাইনটা সুন্দর। একটা হাতে নিয়ে খুলে দেখেই চোখ ছানাবড়া!!! একি!! আবিরের মনে হলো পুরোই আকাশ থেকে পড়লো। কনেঃ শারমিন রিমা!!! রিমা!! আর দেরি না করে বিদায় নিয়ে সোজা বাসায় চলে এলো, হৃদয় চলে যেতে চাইলে আবির কাজ আছে বলে সাথে নিয়ে গেলো, সোজা নিজের রুমে গিয়ে ডেস্কের ড্রয়ার খুলে শারমিনের ছবিগুলো দেখেই বুঝতে বাকি রইলো না এটাই রিমা, যার সাথে বিয়ে হচ্ছে এটা ঐ মেয়েটাই। এরমানে কিছু পাবলিক মিলে একটা গেম খেলেছে আবিরের সাথে। তারমধ্যে হৃদয়ও আছে
.
আবির- ঐ হালার পুত হালা, গেইম তো ভালাই খেইল্যুছ, তুর লয় আর হন হন আছে
হৃদয়- আরে বন্ধু কুল কুল। এখানে সম্রাট, ভাবিও আছে। আর গেম খেলি আর যাই খেলি বাট খারাপ কিছুতো করিনাই। তোর ক্ষতি করছি?
আবির- তা করিসনি কিন্তু টানা ৬/৭ দিন টেনশনে রাখছছ তো। আচ্ছা যাইহোক এটা আমি জেনেছি যে তোর ভাবি যাতে না জানে। প্লিজ।
হৃদয়- ওকে ওকে।
.
বিয়ের দিন রাত ১ টা।
নববধু রিমা অপেক্ষা করে বসে আছে, আবির এখনো আসছেনা। আগেরদিন গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে জেগে থাকায় খুব ঘুম পাচ্ছে ওর। হঠাৎই দরজা খুলে আবির এলো, ঘোমটা দেওয়া অবস্থায় রিমা সালাম দিলো,
আবির- ওয়ালাইকুমুসসালাম, কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম,
রিমা- জ্বি বলুন,
আবির- একচুয়ালি এই বিয়েতে আমার মত ছিলোনা, আব্বু আম্মুর জন্য তোমাকে বিয়ে করেছি, আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি, তাই তোমাকে মেনে নিতে পারবোনা।
রিমা- কি? আমার লগে ধোকাবাজি? হেই কুত্তি মাইয়াডা কেডা? (ঘোমটা তুলে বললো)
আবির- নাম বলা যাবেনা, আর তুমি তো একদিনের সেই গার্লফ্রেন্ড না?
রিমা- উহু, আমি তোমার বউ, আর নাম না বললে তোমাকে আমি ছুড়ি মেরে দিয়ে, নিজে মরে যাবো।
আবির- অমাগো, কয় কি! মেরে দাও, যেটা সত্যি সেটা বলেছি।
রিমা- তুমি কি ভেবেছো হ্যা, আমি সেইদিন এমনি এমনি ঘুরেছি? আমি ভার্সিটির সব জেনেশুনেই তোমার সাথে তোমার মত একটা দিন কাটিয়েছি, যাতে তোমার আফসোস না থাকে।
আবির- সেইদিন কিছু বলতে দিছো? বকবকবক করেছো টানা ৫-৬ঘন্টা।
রিমা- কি আমি বকবক করি?
আবির- হুমম, সেদিন সব তুমিই বলেছো,
রিমা- ঠিক আছে, আমি চুপ হয়ে গেলাম। স্যরি
আবির- উহু, এভাবে বললে হবেনা,
রিমা- তোহ
আবির- ঘোমটা দাও, পা ধরে সালাম করো,
রিমা ঘোমটা দিয়ে যেই সালাম করতে এলো, আবির ওকে বুকে জড়িয়ে নিলো।
আবির- আরে তোমাকে তো সেদিনই ভালোবেসে ফেলেছি।
রিমা- ধরেন সেটা যদি আমি না হতাম?
আবির- তাহলে আজ বিয়েও হতোনা। তুমি আর আমি এক হতাম না।
অসমাপ্ত
Fantastic golpo
ReplyDelete