Skip to main content
Romantic Love story bd _Golpo _তুমি ও আমি
গল্প- তুমি আর আমি
লেখক : নাঈম আহমেদ
প্রথম অংশ
প্রচন্ড জ্যাম দেখে লোকাল বাস থেকে ২ নাম্বার গেট নেমে পড়লো আবির। যদিওবা সে মুরাদপুর যাবে কিন্তু যে জ্যাম! মনে হচ্ছে ১ঘন্টায়ও যেতে পারবেনা। তার চেয়ে ১০মিনিটে হেটে চলে গেলে ভালো হবে। আজ মে দিবস, অফিস বন্ধ। তাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে মুরাদপুর যাচ্ছে সে। ২ নং গেট থেকে হাটতে হাটতে ষোলশহর রেল গেট ক্রস করবে এমন সময় একটা মেয়ে এসে সামনে পড়লো। সাদা ড্রেস পড়া, চুল গুলো খোলা তবে মাথায় ওড়না দেওয়া আর হাতে একটা পার্স। হঠাত্ করেই মেয়েটি বললো আই লাভ ইয়্যু। আবির বললো অ্য আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো কেউই তো নেই। মেয়েটি আবার বললো আই লাভ ইয়্যু। এবার আবির থতমত খেয়ে গেলো।
আবির- আমাকে বলছেন?
মেয়েটি- এখানে কি আর কেউ আছে?
আবির- না
মেয়েটি- তো আবার প্রশ্ন করছো কেন?
আবির- কিন্তু আপনি কে?
মেয়েটি- কে মানে তোমার জিএফ! তুমি আমার বিএফ
আবির- কি? (আমার জিএফ আর আমিই চিনিনা, যারে লাভ করতাম সে তো ছেকা দিয়ে চলে গেছে, এই পাগল আবার কোথ থেকে? এইসব মনে মনে বললো)
মেয়েটি- কি মানে? এখন থেকে আমি তোমার জিএফ। জিএফকে নিয়ে কি রাস্তায় দাড়িয়ে থাকবা? রিক্সা ডাকো। আচ্ছা আমিই ডাকতেছি,
.
মেয়েটি-এই খালি, কাজির দেওরি যাবেন?
রিক্সাওয়ালা-হ আফা যামু,
মেয়েটি- চলেন
এটা বলেই মেয়েটি রিক্সা উঠে বসলো। আবির দাড়িয়ে আছে দেখে
মেয়েটি- কিছে হ্যা? না উঠে দাড়িয়ে আছো কেন? তোমাকে কি কোলে করে তুলতে হবে!
আবির- ইয়ে মানে
মেয়েটি- উঠো বলছি,
.
আবির উঠে বসলো। মেয়েটার গা গেষে বসলো না, একটু ফাক হয়ে বসলো।
মেয়েটি- এই তোমার কি সমস্যা? মানুষ তার জিএফের সাথে ভালোভাবে লেগে বসে আর তুমি? এক ধাক্কায় রিক্সা থেকে ফেলে দিবো। ঠিকমত বসো।
.
আবির একটু লেগে বসলো, মেয়েটার শরীর থেকে দারুণ একটা পারফিউমের ঘ্রাণ আসছে, আহ কি দারুন ঘ্রাণ, পুরাই পাগল করা, মেয়েটির দিকে তাকালো আবির। মেয়েটিকে যতই দেখছে ততই অবাক হচ্ছে। এই মেয়েটা যাকে সে চিনেনা জানেনা সে তাকে আই লাভ ইউ বলছে, বিএফ জিএফ বলছে। সে খুব অবাক। সকালে কার মুখ দেখে উঠেছে কে জানে।
মেয়েটি- তুমি কি মফিজ?
আবির- না আবির।
মেয়েটি- তো চুপ করে আছো কেন? টিভিতে তো দেখথাম মফিজ চুপ করে থাকতো। (এটা শুনে আবির না চাইতেও হেসে দিলো)
আবির- আসলে কি বলবো বুঝতে পারছিনা।
মেয়েটি- মানুষ জিএফকে কি বলে তা তুমি জানোনা!
.
হালকা কথা বলতে বলতে রিক্সা এসে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের কাছে এসে থামলো। মেয়েটি রিক্সাওয়ালাকে রেডচিলি রেষ্টুরেন্টের সামনে থামতে বললো। দুজনে রিক্সা থেকে নামার পর
.
মেয়েটি- আঙ্কেল কত?
রিক্সাওয়ালা- ৮০টাকা দেন
মেয়েটি- কি? এখান থেকে এখানে ৮০টাকা? টাকা কি গাছে ধরে? নাকি আমরা কোনদিন রিক্সায় চড়ি নাই? এই আবির ওনাকে ৫০টাকা দাও।
আবির- জ্বিহ...!!
মেয়েটি- বলেছি ভাড়া ৫০টাকা দাও।
আবির মানিব্যাগ থেকে ৫০টাকা দিলো। ভাড়া দেওয়ার পর মেয়েটি রেডচিলিতে ঢুকলো। আবির বাইরে দাড়িয়ে আছে দেখে মেয়েটি ওকে হাত ধরে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো। তারপর কর্ণারের একটা টেবিলে বসলো।
মেয়েটি- হাবার মত দাড়িয়ে আছো কেন? আমার সামনা সামনি বসো।
.
আবির বসলো। আজকে ওর কপালে শনি আছে মনে হয়। কেন যে এই মেয়েটার সাথে আসছে নিজেও জানেনা। আজকে ছুটি তাই সাথে তেমন টাকা আনেনি, ইতিমধ্যে রিক্সা ভাড়া ৫০টাকা গেছে, এখন আসছে রেডচিলিতে, আজকে নির্ঘাত মাইর খাইতে হবে। তবে মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর, চেহারায় মায়া আছে, তেমন মেকআপ করেনি তবে ঠোটে লাল করে লিপস্টিক দিয়েছে। আর কথাবার্তাও স্ট্রং। কিন্তু মেয়েটা কে? আবির কিছুই বুঝতে পারছেনা।
মেয়েটি- এভাবে তাকিয়ে আছো কেন, মনে হচ্ছে আমাকে খেয়ে ফেলবা।
আবির- এ্য....
মেয়েটি- কিছুক্ষণ পর পর এ্য জ্বি এগুলা কি? হ্যা? আর হ্যা তুমি তো সত্যিই একটা আবুল, এখনো আমার নাম জিজ্ঞেস করোনি, আমার নাম রিমা। এখন আমার ক্ষিদে পেয়েছে অর্ডার দাও। ওয়েটার...
২টা কাবাব দিবা ১টা প্লেটে, ৪টা পরোটা, আর দুইটা অরেঞ্জ জুস। এগুলো অর্ডার করলো রিমা।
.
আবির মনে মনে ভাবলো, খাইছে, আজকে এরা আমাকে কাবাব বানাবে। অনেক টাকা বিল আসবে, পকেটে মনে হয় দেড়শ টাকা আছে। আল্লাহ তুমি রহম কর।
.
ওয়েটার অর্ডার করা সব খাবার এনে টেবিলে রাখলো। রিমা খাওয়া শুরু করলো, আবির দেখলো ঠিক একটা বাচ্চা মেয়ের মত খাচ্ছে। আবির ওদিকে তাকিয়ে থাকলো।
রিমা- ভালো তো, তুমি না খেয়ে আমার খাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকো তারপর আমার পেট ব্যাথা করুক. বাহ খুব ভালো আইডিয়া। চট করে খাওয়া শুরু করো। আমাকেও খাইয়ে দাও। আচ্ছা থাক। তুমি খাও।
.
সব স্বপ্নের মত একটার পর একটা ঘটে যাচ্ছে, সে স্বপ্ন দেখছে না তো, শিউর হওয়ার জন্য একটা কাটা চামচ দিয়ে নিজেই নিজের হাতে গুতো মেরে দিলো।
আবির- উউহ
রিমা- এই কি হইছে, কাটা চামচ দিয়ে কি করছো? তোমাকে না বলেছি খেতে?
আবির একটু করে খেয়ে জুসটা খেলো।
আবির- আমার খাবার শেষ, এগুলো আপনি খান।
রিমা- কখন থেকে একটা ব্যাপার খেয়াল করছি, আমি তো তোমার অনেক ছোট বাট তুমি আমাকে আপনি বলছো কেন? বিএফ জিএফ কি আপনি করে কথা বলে?
আবির- আসলে আপনি কি বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা।
রিমা- আচ্ছা, আমি আর খাবোনা, পেট ভরে গেছে
আবির- তুমি জানো? পৃথিবীতে ১০০কোটি মানুষ খাবারের অভাবে ভুগছে?
রিমা- এইতো এতক্ষণে একটা বিএফের মত কথা বললা, বাট সেটা তো তোমারও বোঝা উচিত, কারণ এই খাবার থেকে আমি বেশির ভাগ খেয়েছি আর তুমি কম খেয়েছো।
আবির- সরি টু সে আমি তো অর্ডার করিনি।
রিমা- বাট দুজনেই শেয়ার করে খাবো..
খাওয়া শেষে ওয়েটার বিল এনে দিলো। ৬৮০টাকা। আবির দেখে মনে মনে আল্লাহকে ডাকতে লাগলো। তখন দেখলো রিমা তার পার্স থেকে ১০০০টাকার ১টা নোট বের করে ওয়েটারকে দিলো। ওয়েটার বিল পে করে ৩২০টাকা ফেরত দেওয়ার পর রিমা ওয়েটারকে ২০টাকা দিলো। রেডচিলি থেকে বের হয় রিমা একটা রিক্সা নিলো। রিমা আবিরকে রিক্সায় উঠতে বললো। রিমাও উঠে বসলো। রিক্সা গিয়ে থামলো সদরঘাট। রিক্সাওয়ালাকে আবির ৫০টাকা দিলো।
রিমা- চলো নদীর পাড়ে হাটি,
আবির- কেন?
রিমা- তুমি তো দেখছি পুরাই আনরোমান্টিক। মানুষ তার জিএফকে নিয়ে কত সুন্দর সুন্দর জায়গায় ঘুরে আর তুমি?
আবির- এটা সুন্দর জায়গা হলো, নদীতে শিপ চলতেছে আর পাড়ে গাড়ির আওয়াজ।
রিমা- তো যেখানে কোলাহল আর আওয়াজ নেই সেখানে চলো,
দুজনে হাটতে হাটতে আরো সামনে এগিয়ে গেলো। নদীর পাড়ে বড় পাথরের ব্লক বসানো ওগুলোর উপর হাটছে,
আবির মেয়েটির দিকে বার বার তাকাচ্ছে। মেয়েটির মনে কি চলছে আল্লাহ জানে, সব স্বপ্নের মত একের পর এক ঘটেই যাচ্ছে, ইশশ এত সুন্দর মেয়েটি যদি সত্যিই তার জিএফ হত, সে এখনই বিয়ে করে ফেলত। এমনিতে তো সে স্যাটলই আছে।
রিমা- কি দেখো? ঐযে ফুলের দোকান থেকে ৭টা ফুল নিয়ে আসো। যাও।
আবির- কেন?
রিমা- তোমাকে যেতে বলেছি যাও,
.
আবির ফুল আনতে গেলো। এদিকে রিমা নদীর পাড়ে একটা ব্লকের উপর বসে রইলো। প্রায় ৪টা বেজে গেছে। কিছুক্ষণ পর আবির ফুল নিয়ে এলো।
আবির- এই নাও ফুল,
রিমা- পাগল নাকি? এভাবে কেউ ফুল দেয়?
আবির- তো কিভাবে?
রিমা- সুন্দর করে আমাকে ফুল দিয়ে প্রপোজ করো।
আবির- ইম্পসিবল.. আমি এটা পারবোনা।
রিমা- পারবানা মানে? অন্য কেউ আছে নাকি?
আবির- তা নেই, তবুও আমি পারবোনা।
রিমা- আচ্ছা রিয়েলি না হোক অন্তত মিছেমিছি হলেও একবার প্রপোজ করো। প্লিজ..
.
আবির লক্ষ্য করলো, মেয়েটির মায়াবী নিষ্পাপ চেহারায় অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। চোখের কোণে পানি ছল ছল করছে। কিন্তু নাহ, সে পারবেনা।
.
রিমা- আচ্ছা থাক। ফুলগুলো দাও।( রিমা ফুলগুলো আবিরের হাত থেকে নিলো) আচ্ছা আমি তোমার কাঁধে একটু মাথা রাখি, প্লিজ..
আবির- আচ্ছা ঠিকআছে..
রিমা- থ্যাংক ইউ।
.
রিমা আবিরের কাধে মাথা রাখলো, আবিরের কেমন যেন অনুভব হলো। কেন জানি মেয়েটার উপর অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করছে। খুব আপন মনে হচ্ছে তাকে।
রিমা- আচ্ছা বাড়িতে তোমার কে কে আছে, আর তুমি কি করো?
আবির- বাড়িতে আব্বু আম্মু, দুই ছোট বোন আর এক ছোট ভাই। আর আমি স্টাডি শেষ করে , দুবছর হলো একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে জব করি।
রিমা- ও..
.
বিকেল ৫টা। পড়ন্ত বিকেল, খুব সুন্দর একটা মুহুর্ত। রিমা আবিরের কাধে মাথা রেখেই একটা সেলফি নিলো।
রিমা- মুখ একটারে বান্দরের মত করি রাইখছো কিল্লায়?
আবির- তুমি চিটাইঙ্গা না?
রিমা- না, কুমিল্লার। কেমনে বুঝলা?
আবির- কথা শুনে বুঝলাম, কুমিল্লার মানুষ তো ইতর হয়।
রিমা- কি বললা তুমি?
আবির- না কিছুনা।
রিমা- হুমম। আচ্ছা এখন উঠো। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।
.
রিমা একটা সিএনজি নিলো, আবিরকে নিয়ে সানমার ওশান সিটিতে গেলো। আবিরকে বাইরে দাড়াতে বলে রিমা লিফট দিয়ে সোজা ৩ তলায় উঠে গেলো। কিছুক্ষণ পর সে একটা প্যাক হাতে বের হয়ে আসলো। প্যাকটা আবিরের হাতে দিয়ে বললো তুমি একটু দাড়াও আমি আসতেছি।
.
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে আবির দাড়িয়ে আছে। কিন্তু রিমা এখনো আসছেনা। আবির প্যাকটা একটু খুলে দেখলো একটা পাঞ্জাবী, একটা ঘড়ি, আর ২টা ১০০টাকার নোট। তার ভেতরে একটা ভাজ করা কাগজ। কাগজটা হাতে নিয়ে ভাজ খোলার আগে দেখলো উপরে লিখা "বাসায় চলে যাও তারপর চিঠিটা পড়বা"
.
আবির বাসায় চলে গেলো। প্যাকটা তার রুমের ওয়ারড্রোবে ঢুকিয়ে রেখে ফ্রেশ হতে গেলো। মা আবিরকে দেখা মাত্রই বললো
মা- কিরে সারাদিন তুই কই ছিলি? কোন খবর নাই, ফোনও ধরিসনি, দুপুরে খাওয়াদাওয়ার কোন খবর নাই।
আবির- আম্মু আমি সম্রাটদের বাসায় খেয়েছি।
মা- আজকে ছুটির দিন। তুই খিচুড়ি পছন্দ করিস তাই আজ খিচুড়ি রান্না করেছি কিন্তু তোর কোন খবর নাই।
আবির- আচ্ছা আম্মু এখন খাবো। আমাকে একটু চা করে দাও।
.
আবির তার রুমে চলে গেলো। শুধু রিমার কথা মনে পড়ছে। রিমার দেওয়া প্যাকটা বের করে দেখলো, হালকা বাদামী কালারের একটা পাঞ্জাবী আর পাইলট ব্রান্ডের একটি হাত ঘড়ি। চিঠিটা ভাজ খুলে পড়তে লাগলো....
চিঠিতে কি লিখা ছিলো এবং এরপর কি হলো তা পড়তে চাইলে কমেন্টে জানান। আপনাদের কমেন্ট গল্পের পরবর্তী অংশ লিখতে অনুপ্রেরণা দিবে।
Comments
Post a Comment