তবুও তোমাকেই ভালোবাসি ❤️
পর্ব : ১
তানিশা কে পিছন থেকে জরিয়ে ধরলো তার দুলাভাই । হঠাৎ এমন হওয়ায় সে পিছনে তাকিয়ে দেখে এটা তার ফুফাতো বোনের জামাই । ঘৃনায় চোখ - মুখ কুচকে গেলো তানিশার
- আমাকে ছেড়ে দিন দুলাভাই লজ্জা লাগেনা নিজের ছোট বোনের বয়সি এক মেয়ের সাথে এমন নিচ আচরণ করতে। আমি কিন্তু বাধ্য হবো বাসায় জানাতে ।
তানিশা সাদাব কে এসব বলছিলো আর মোচড়াচ্ছে ছুটার জন্য। কিন্তু একজন পুরুষ মানুষের শক্তির সাথে কি আর পারা যায় ।
- এইরকম করছো কেন তানিশা তোমার এই কোমড় সমান খোলা চুলের প্রেমে পড়ে গেছি আমি । তুমি চাইলে অই মিতুকে আমি ডিভোর্স দিবো অই কালির যোগ্যতা নাই এই সাদাব খানের বউ হওয়ার ।
- ছিহ্ঃ দুলাভাই ছিহ্ আপনি এতো নিচ আপনার সাথে কথা বলতেও আমার ঘৃনা লাগছে ।
তানিশা এবার নিজের শরীরের সব শক্তি খাটিয়ে ঘুরে সাদাবের হাত থেকে নিজের হাত ছুটাবার চেষ্টা করছিলো আর তখন তার ফুপির আগম হয় । সাদাব তা আগে থেকে লক্ষ করে আর তানিশার হাত মুঠো করে ধরে রাখে।
- এ কি করছো তানিশা আমি তোমার বড় বোনের জামাই, তুমি কিভাবে এই কাজ আমার সাথে করতে পারো। তুৃমি জানোনা আমি মিতুকে কতো ভালোবাসি। ছাড়ো আমাট হাত, লজ্জা নাই কিছু তোমার মধ্যে ছিহ্।
সাদাবের হটাৎ পালটে যাওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না তানিশা। বোকার মতো তাকিয়ে আছে।
- এসব কি বলছেন দুলাভাই আপনি আমার কথা শুনেন।
তানিশা নিজের কথা শেষ করার আগেই ওর ফুপি বাড়ির সাদে চলে আসে। আর তাকে দেখে সাদাব হাত ছেড়ে দেয়।
- মা জানেন এই অসভ্য মেয়েটা আমার সাথে অসভ্যতা করছিলো, মিতুকে তালাক দিয়ে ও কে বিয়ে করতে বলে।
- আপনি মিথ্যে কেনো বলছেন দুলাভাই, ফুপি দুলাভাই নিজে আমাকে এসব কথা বলছে।
তানিশা কে ছাদেই তার ফুপি মারা শুরু করে, মারতে মারতে নিচে নিয়ে যায় । চিল্লাচিল্লি করে সবাইকে বাড়ির ড্রয়িংরুমে নিয়ে আাসে। সবাই আাসার পড়ে যেই মিথ্যে সে দেখেছে তাই সে সবাইকে বলে। তানিশার মা- বাবা লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে। সাইড ড্রয়ার থেকে কেচি নিয়ে তানিশার মা - বাবার সামনে তানিশার হাটু সমান চুল কেটে পিঠ অব্দি করে দিলেন ফুপি। তানিশা কি বলবে ভাষা খুজে পাচ্ছে না চোখ দিয়ে পানির ঝর্না ধারা বয়ে যাচ্ছে। এতেও ফুপি ক্ষ্যান্ত হয় নাই সে তানিশার গালে জোরেশোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।
- লজ্জা করে না তোর বড় বোনের স্বামীর দিকে কু নজর দিতে তোর লজ্জা করে না
- ফুপি আমার কোনো দোষ নাই বিশ্বাস করো দুলাভাই মিথ্যে বলছে তোমাদের।
তানিশার কান্না কারো চেোখে পড়ছে না এই বাড়ির কএী সাজিদা জাহান যখন এসব বলেছে তখন তো সবাই বিশ্বাস করবেই । তানিশার ফুপির ছোট জাল তখন মুখ ঝামটা মেরে বলে
- আগেই বলেছিলাম ভাবি এতো বড় ঢিঙ্গি মেয়ে বাড়িতে রেখো না এখন দেখো তোমার মেয়ের সংসারের দিকেই কু-দৃষ্টি দিয়ে বসে আছে.। আরে ভাই আার ভাইয়ের পরিবার কে নিয়ে মাতামাতি করো।
সবার এমন কথায় লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে। দৌড়ে নিজের রুমে দরজা আটকে দেয় তানিশা, এসব কথা সে তো আর নিতে পারছে না।
- দেখলি আজিজ দেখলি তোর মেয়ের কাজ এতো অন্যায়ের পড়েও কিভাবে সবার সামনে দৌড়ে গেলো। আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি যে মেয়েকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারিস নাই তুই।
- আপা তুৃমি এভাবে কেন বলছো আজ সকালেই আমরা এ বাসায় এসেছি তুমি ডাকছো তাই। নাহলে আমরা ভুলেও তোমাদের বাসায় আাসার সিদ্ধান্ত নিতাম না। আমি আমার মেয়ের সামনে তোমাকে কিছু বলি নাই এই কারণে যে তুমি আমার বড় বোনের সামনে অসম্মান হবে। এইজন্য তুমি এসব কথা শুনাতে পারে না।
- তানিশার আব্বু ঠিক বলেছে আমি তানিশা কে বকাঝকা ঠিকেই করি তবে তা ওর ভালোর জন্য যাতে খারাপ পথে না যায়। আমি তানিশা কে লালন পালন করছি আর আমি জানি আমার মেয়ে কেমন, তাই আপা আগে আপনি সাদাবের খবর নিন। অইদিন তো দেখলাম আপনার মেয়েকে মেরে সে কি অবস্থা নাই করেছিলো।
অথচ এগুলা বলে আপনাকে বলে লাভ নাই আপনি আপনার মেয়ের ভালো থাকা দেখেন নাই, দেখেছেন টাকা সম্পওি যা আপনাকে আপনার বড় মেয়ের জামাই দিচ্ছে। সাবধান হন এসবের জন্য না মেয়েকে হারাতে হয় আপনার।
- শিলা এতো বড় সাহস তোমার,আমার মুখের উপর কথা বলছো তুমি?
- কিভাবে কথা না বলে থাকি আপা আমার মেয়ের ছোট থেকে যত্ন নেওয়া চুল যা তার সব থেকে প্রিয় তা আপনি কেটে দিলেন? আপনার সাহসও তো কম ছিল না। আমার মেয়ে অন্যায় করেছে আপনি আমাদের বলতে পারতেন আমরা তার বিচার করতাম কিনা দেখতেন এরপর না হয় আপনি নিয়ে এসব করতেন । ছিঃ আপা আপনার সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাধে।
এতক্ষন তানিশা চুপচাপ তার বাবা ও সৎ মায়ের কথা শুনে যাচ্ছিল। এই মানুষটাকে বকতো তাই তানিশা ভাবতো তাকে ভালোবাসে না। অথচ আজ তার হয়ে কথা বলছে বুঝাই যাচ্ছে যে সে কতটা ভালবাসে তানিশাকে।হুহু করে কেঁদে যাচ্ছে তানিশা এই চুল ই ছিল তার ভালোবাসা । তানিশার মায়ের ও এমন লম্বা ঘন চুল ছিল তাই তোর ছোট থেকে বাবা ও সৎ মা সবসময় তার চুলে যত্ন নিতো
- তানিশা মা বেরিয়ে আসো আমরা এখানে আর এক মুহূর্ত থাকবো না আজ বাড়িতে রিটার্ন করব। তোমার না সামনে এসএসসি পরীক্ষা বাসায় গিয়ে পড়তে হবে।
মায়ের কথায় তানিশা চুপচাপ ওই রুম থেকে বেরিয়ে আসে, আর কারো থেকে কিছু না বলে তারা বের হয়ে যায়। তানিশার বাবা গাড়ির ড্রাইভ করছে আর তানিশার মা তানিশাকে সান্তনা দিচ্ছে। তানিশা একদম তার মায়ের বুকের সাথে মিশে আসে।
হঠাৎ এক অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস ঘটে গেল তাদের সাথে, কেউ কি কল্পনা করেছে এমন হবে।
হাইওয়ের রাস্তায় তানিশাদের গাড়ির উপর এক ট্রাক উঠে যাচ্ছিল তানিশার বাবার কথায় তানিশার মা তানিশাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। দ্রুত এসব ঘটে যাওয়ায় তানিশা কিছু বুঝে উঠতে পারে নাই। চারিদিকে তার অন্ধকার হয়ে আসছে মাথা শূন্য প্রায় তার। আশেপাশের লোকজনের চিৎকার শুনতে পাচ্ছে।
যখন জ্ঞান ফিরে তানিশার তখন নিজেকে হাসপাতালে চার দেয়ালের মধ্যে আবিষ্কার করে। বেড থেকে নেমে যায় সে আশেপাশে তার বাবা-মাকে খুঁজতে লাগে ।
- মা-বাবা তোমরা কোথায়, আমার একা ভয় লাগছে।
রোম থেকে বের হয়ে দেখে ওর বড় ফুফু ছোট ফুপু বসে হাসপাতালে করিডোরে কাদছে । ওখানে তানিশা যেতেই তানিশাকে দেখে ওর বড় কবি বলতে লাগলো।
- এই অলক্ষে আমার ভাই আর ভাইয়ের বউটাকে খেয়ে নিলো। আজ এই অলক্ষের জন্য আমার ভাই আর ভাইয়ের বউ দুনিয়াতে নাই। তুই বাইচা আছোস কেন বাপ - মা রে খাইলি।
- আহ আপা মেয়েটার অবস্থা ভালো না এভাবে এখন ওকে গালমন্দ করো না তুমি।
- তুই জানোস আজ ওর জন্য আমার সাথে ঝগড়া করে আজিজ বাড়ি থেকে বের হইছে আজ যদি ওরা না বের হতো তাহলে আমাদের ভাই আমাদের ছেড়ে যেত না।
শান্তি লাগছে এবার নিজের ছোটবেলা নিজের মা টাকে খাইলে আর এখন বাপ আর সৎ মা টারেও। রাক্ষসী তুই মরস না কেন। স্তব্দ হয়ে পাথরের মত দাঁড়িয়ে আছে তানিশা কি বলবে সে ভাষা খুজে পাচ্ছে না ।
Comments
Post a Comment